Consult Online
Book an Appointment
  • Calcutta Medical Research Institute 7/2 Diamond Harbour Road Kolkata-700027, West Bengal

ই.সি.এম.ও চিকিৎসা

ই.সি.এম.ও-এর মানে হল, এক্স্ট্রাকর্পোরিয়ল মেমব্রেন ওক্সিজেনেশন, যেটি একটি উন্নতমানের জীবনরক্ষার প্রণালী যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে, হৃৎপিন্ড বা ফুসফুসের (হার্ট বা লঙ্গ্সের) সমস্যাযুক্ত রোগীদের সাহায্য প্রদান করা হয়। এই পদ্ধতিটিতে, রোগীর শরীরের বায়রে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য পাম্প করা হয়, আর সেই সময়ে হৃৎপিন্ড এবং ফুসফুসকে বিশ্রাম নিতে সাহায্য করা হয়। যখন অন্য অন্য সকল চিকিৎসা প্রণালীতে কোনো ফলাফল না পাওয়া গিয়ে থেকে থাকে, ই.সি.এম.ও দীর্ঘমেয়াদের জন্যে নিশ্বাস ও হার্টের সাহায্যের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। ই.সি.এম.ও-র দ্বারা রোগীদের বেশ কয়েক সপ্তাহের জন্যে সাহায্য করা যেতে পারে, এবং সেই সময়কালে চিকিৎসকেরা রোগীর অন্তর্নিহিত রোগের চিকিৎসা করতে থাকতে পারেন।

ই.সি.এম.ও-র মানে হল:

  • এক্স্ট্রাকর্পোরিয়ল কথাটির অর্থ হল শরীরের বায়রে
  • মেমব্রেন (ঝিল্লি) এর অর্থ হল কৃত্রিম ফুসফুস (লাঙ্গ্স)
  • ওক্সিজেনেশন বলতে যেটা বোঝা যায়, সোটা হল, রক্তে অক্সিজন সরবরাহ করার প্রক্রিয়া

ই.সি.এম.ও-তে একটি নল দিয়ে মেশিনের ভেতরে কৃত্রিম ফুসফুসে রক্ত সঞ্চালন করে, যেখানে রক্তর থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে তাতে অক্সিজেন যুক্ত করা হয়; তারপরে রক্তটাকে শরীরের তাপমাত্রার অনুকূলে উষ্ণ করে সেটা আবার শরীরে ফরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ই.সি.এম.ও পদ্ধতিতে একটি হৃৎপিন্ড-ফুসফুস বাইপাস মেশিন ব্যবহার করা হয় যোটি বাইপাস সার্জারিতে ব্যবহৃত মেশিনের সদৃশ। ই.সি.এম.ও মেশিন, যেটি “সার্কিট” নামেও পরিচিত, আকারে বৃহৎ, এবং তার মধ্যে জীবাণুমুক্ত প্লাস্টিকের নলী থাকে, যার সাহায্যে রোগীর শরীর থেকে রক্ত কৃত্রিম ফুসফুসে গিয়ে আবার শরীরে ফেরত আসে।

মুলত, ই.সি.এম.ও দুরকমের হয়, যথা:

ভেনোআর্টেরিয়ল (ভি-এ) ই.সি.এম.ও: এই ই.সি.এম.ও তখন ব্যবহার করা হয় যখন হৃৎপিন্ড ও ফুসফুস, উভয়েরই বিশ্রাম এবং নিরাময়ের প্রয়োজন; ভি-এ ই.সি.এম.ও-টি একটি শিরা (ভেন) এবং একটি ধমনীর (আর্টারীর) সাথে যুক্ত থাকে।

ভেনোভেনাস (ভি-ভি) ই.সি.এম.ও: এই ই.সি.এম.ও তখন ব্যবহার করা হয় যখন হৃৎপিন্ড স্বাস্থ্যকর ও ভালভাবে  কার্যকারী কিন্তু ফুসফুসের নিরাময়ের জন্য বিশ্রাম এবং সময়ের প্রয়োজন। ভি-ভি ই.সি.এম.ও-টি শিরার (এক বা একাধিক) সাথে যুক্ত থাকে।

ই.সি.এম.ও কখন ব্যবহার করা হয় ?

ই.সি.এম.ও চিকিৎসা যে সব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার উদাহরণ হল:

  • রোগীরা যাদের হৃৎপিন্ড বা ফুসফুসের সমস্যার পর পুনরুদ্ধারেরে চেষ্টায় রয়েছেন
  • রোগীরা যাদের হার্টের সার্জারি (অস্ত্রোপচার) পর পুনরুদ্ধারেরে চেষ্টায় রয়েছেন
  • সার্জারির আগে শরীরের অঙ্গগুলি, যেমন, কিডনি ও ব্রেনের (মস্তিষ্ক) অন্তর্নিহিত অবস্থা
  • তীব্র ঝুকিপূর্ণ অপারেশনে সাহায্য করা
  • একটি হার্ট এ্যাসিস্ট ডিভাইস-এর পরিপোষক হিসেবে কার্যকরী
  • যে সকল রোগীদের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের (লাঙ্গ্স ট্রান্সপ্লান্ট) প্রয়োজন, কারণ ই.সি.এম.ও টিস্যুগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে, যাতে রোগীর ট্রান্সপ্লান্টের সম্ভাবনার পর্যায় যাতে আরও উন্নত হতে পারে

ই.সি.এম.ও-র জন্য পদ্ধতি

রোগীর ঘরে, শল্যচিকিৎসা পদ্ধতির (সার্জিকল প্রসিডিয়র) মাধ্যমে, রোগীকে একটি ই.সি.এম.ও যন্ত্রের সাথে যুক্ত করে রাখা হয়। প্রক্রিয়া চলাকালীন রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া (অসাড়করণ ঔষধ) এবং ব্যাথার ওষুধের সাথে সাথে, রক্তে যাতে জমাট না হয়, তার জন্যেও ওষুধের অধীনে রাখা হয়। একবার এই পদ্ধতিটি হয়ে গেলে, চিকিৎসক ই.সি.এম.ও-র ক্যাথিটারটি রোগীর শিরা বা ধমনী বা উভয়ের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়, যা রোগীর প্রয়োজন ও অবস্থার ওপরে নির্ভরশীল। ক্যাথিটারটি স্থাপিত হয়ে গেলে, টিউবগুলো সঠিক স্থানে আছে কি না, সেটা বোঝার জন্যে একটি এক্স-রের প্রয়োজন হয়। এই সকল সময়ে, যখন রোগী ই.সি.এম.ও-তে থাকে, সর্জন (শল্যচিকিৎসক) ও সার্জিকল টিমের সাথে বিশেষজ্ঞ নার্স ও শ্বাসকষ্টের ভেষজবিজ্ঞানী (রেস্পিরেটরি থেরাপিস্ট) থাকেন। ই.সি.এম.ও-এর সময়ে, শিরা (ইন্ট্রাভেনস) বা অনুনাসিক-যুক্ত-পাকস্থলী (ন্যাসাল-গ্যাস্ট্রিক) নলীর মাধ্যমে রোগীর পরিপূরক পুষ্টি সরবরাহ করা হয়।

তদোপর, এটা সুনিশ্চিত করার জন্য যে ই.সি.এম.ও-তে যেন কোনোরকমের জটিলতা না দেখা দেয়, রক্ত যাতে জমে না যায়, সংক্রামকারী জীবানুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে, এবং যাতে চলাচল স্বল্প করে স্বাচ্ছন্দে ঘুমোতে পারেন, চিকিৎসকেরা রোগীদের ঔষাধি দেন। তার সাথে, কিডনী যাতে তরল পদার্থ বার করে দিতে পারে, তার জন্যে ডায়ুরেটিক্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়; ইলেক্ট্রোলাইট্সের পরামর্শও দেওয়া হয় যাতে শরীরে নুন ও চিনির যথাযথ ভারসাম্য বজায় থাকে; এবং অন্যান্য ওষুধপত্র রক্তহ্রাসের সমস্যায় সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হবে।

ই.সি.এম.ও মেশিন অক্সিজেন ছাড়া রক্ত আহরণ করে, অক্সজেনেটর নামে পরিচিত কৃত্রিম ফুসফুসে (আর্টিফিশিয়ল লঙ্গ্স) স্থানান্তরিত হয়। রক্ত কৃত্রিম ফুসফুসে পৌঁছানোর পরে, তাতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় এবং সব কার্বন ডাইঅক্সাইড সরিয়ে ফেলা হয়, যার ফলে রক্ত্ রঙ গাড় লাল থেকে উজ্জ্বল লালে পরিণত হয়। একবার রক্তে অক্সিজেন পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সেটাকে শরীরের তাপমাত্রার অনুকূলে উষ্ণ করে সেটা রোগীর শরীরে ফেরত পাঠানো হয়।

ই.সি.এম.ও-র উদ্দেশ্য যখন পরিপূর্ণ হবে বা যদি ই.সি.এম.ও-র অন্য কোনো প্রয়োজনীয়তা না থাকে তাহলে অস্ত্রোপচারের দ্বারা টিউবগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু, ই.সি.এম.ও বন্ধ করাতে হলে, হার্ট ও ফুসফুস স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে সেটা প্রমাণ করার জন্যে, একাধিক পরীক্ষার ছাড়পত্রের পরেই তার অনুমতি সম্ভব। টিউবগুলো সরানোর পরে, যে ভেসেল্সের (শিরা বা আর্টারি) সাথে টিউবগুলো ই.সি.এম.ও-র জন্যে খোলা হয়েছিল, সেগুলো বন্ধ করার সূত্রে কিছু সেলাই(স্টিচ)  করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু, রোগী যদি আর ই.সি.এম.ও-এর সাহায্যে নাও থাকেন, তার পুনরুদ্ধার এবং শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে তাকে হয়তো ভেন্টিলেটরের সাহায্য নিতে হতে পারে।      

ইসিএমও-র সাথে জড়িত ঝুঁকিগুলো

অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ই.সি.এম.ও খুবই নিরাপদ একটি পদ্ধতি এবং প্রণালীটি সম্পূর্ণ সততার সাথে তার উদ্দেশ্যে পরিবেশিত। কিন্তু, এর সাথে নিম্নলিখিত কিছু ঝুঁকি জড়িয়ে আছে :

  • রক্ত জমাট যাতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যে দেওয়া ওষুধের প্রতিরোধের কারণে হওয়া রক্তপাত
  • টিউব প্রবেশের স্থানে সংক্রমণ
  • রক্ত পরিব্যাপ্তির (ট্রান্সফিউশন) সমস্যা
  • টিউবের ভেতরে ছোট ক্লট বা বায়ুর বুদবুদের (এয়ার বাবল) গঠন
  • স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়
  • শরীর ফুলে যাওয়া

এটা আরও বলা দরকার যে, যদিও ই.সি.এম.ও কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে মানসিক আঘাত প্রদান করেছে, হৃৎপিন্ড এবং ফুসফুসের ভারবহন করে দ্রুত নিরাময় সক্ষম করে তোলার জন্যে এটা সর্বোত্তম পদ্ধতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">HTML</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*

Hi, How Can We Help You?