Consult Online
Book an Appointment
  • Calcutta Medical Research Institute 7/2 Diamond Harbour Road Kolkata-700027, West Bengal

হাঁটু প্রতিস্থাপনের (রিপ্লেসমেন্ট) শস্ত্রচিকিৎসা (সার্জারি)

হাঁটু প্রতিস্থাপনেরশস্ত্রচিকিৎসা (সার্জারি), যাকে চিকিৎস্কীয় ভাষায় টোটাল নী অর্থোপ্লাস্টী বলা হয়ে থেকে থাকে, যাতে যাদের হাঁটুর জয়েন্টের গুরুতর অবস্থা, তাঁদের ব্যাথা উপশম করা এবং স্বাভাবিক ভাবে কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করার একটি পদ্ধতি। হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি খুবই নিরাপদ এবং আজকের দিনের সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিগুলির মধ্যে গণ্য। এই অস্ত্রোপচারে উরু, জঙ্ঘাস্তি (শিনবোন) এবং হাঁটুর মালাইচাকি থেকে আপোষযুক্ত হাড় এবং কারটিলেজকে সরিয়ে ফেলা হয়, এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্লাস্টিক এবং ধাতু দিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম যৌথ জয়েন্ট (মালাইচাকি) প্রতিস্থাপন করা হয়। এই কৃত্রিম যৌথ জয়েন্টগুলিকে প্রস্থেসিসও বলা হয়।

জখম, ট্রমা, রোগ (বাতের মতো) বা বার্ধক্যের কারণে হাঁটুর জয়েন্টগুলি ক্ষতিগ্রস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়া রোগীদের হাঁটুর জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আক্রান্ত হাঁটুর জয়েন্টগুলিতে ভীষণ ব্যথা হয় এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। একটি বেদনাদায়ক বা দুর্বল হাঁটুর জয়েন্টে অনেকগুলি সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে, যেমন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামা করা, হাঁটা চলা করা, বসা, দাঁড়ানো বা চলাচলে অসুবিধা, শোয়া; আসলে হাঁটুর জয়েন্টের উপর চাপ জড়িত যে কোনও ক্রিয়াকলাপে আপোষযুক্ত হাঁটু জয়েন্টের কারণে প্রভাবিত হবে। তবে, দেখা যায় যে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি সকল ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম পছন্দ নয়, কারণ চিকিৎসকেরা হাঁটু প্রতিস্থাপনের শল্য চিকিৎসার পরামর্শ সেই রোগীদেরই দেন যাঁদের অন্যান্য ধরণের চিকিৎসা যেমন ঔষধ, ফিসিওথেরাপি, বা চলাচলকারী এড্স সহ চলাফেরার সহায়তা ইত্যাদি করার পরেও দীর্ঘমেয়াদের ব্যথা থেকে মুক্তি বা কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। আজ, এই অস্ত্রোপচারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে উঠেছে কারণ এটি নিরাপদ, তাতে ন্যূনতম জটিলতা রয়েছে, সার্জারির পরে পুনরুদ্ধারের জন্য সময় কম লাগে এবং সমস্যাযুক্ত হাঁটুর জয়েন্ট এবং পায়ে যদি কোনো বিকৃতিও থেকে থাকে তার সংশোধনের সাফল্যের পরিচয় রয়েছে।

এটা বলার সাথে সাথে এটাও বলা দরকার যে, যদিও হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি নিরাপদ চিকিৎসাগুলির মধ্যে গণিত, তবুও সার্জারির মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে রোগীর জন্য  সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি, পদ্ধতি, পুনরুদ্ধার, সতর্কতা ইত্যাদি মূল্যায়ন করে, বিবেচনা এবং আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা উচিত। তার সাথে সকল রকমের বৈকল্পিক চিকিৎসা পদ্ধতিরও মূল্যায়ন করা জরুরি। অন্যদিকে, সার্জন বা শল্যচিকিৎসকও হাঁটুর জয়েন্ট সম্পর্কিত দক্ষতা, স্থায়িত্ব, শক্তি, নমনীয়তা, কাঠামো ইত্যাদির জন্য শারীরিক পরীক্ষা করে সার্জারির জন্য রোগীর উপযোগিতা মূল্যায়ন করবে। এছাড়াও, ডাক্তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং তার বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণের জন্যে এক্স-রে পরিচালনা করবেন। 

 ডাক্তার এছাড়াও লক্ষণগুলি, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করবেন এবং হাঁটুর জয়েন্টের বর্তমান অবস্থান জানতে একটি এক্স-রে পরিচালনা করবেন। এরপরেও, হার্ট, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সম্পর্কিত কোনও প্রাক-বিদ্যমান রোগ এবং সমস্যাগুলি সম্পর্কে জানার জন্য পরীক্ষা করা হবে। যখন পরীক্ষাগুলির ফলাফল যদি কোনো ঝুঁকির উল্লখ না করে তখনই এই সার্জারি নেওয়া হয়।  রোগীর উচ্চতা, ওজন, বয়স, শারীরিক ক্রিয়াকল্পের এবং সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য, এই সকল বিষয় নিয়ে বিবেচনা করে শল্যচিকিৎসার প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্থেটিক্সের ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি কার দরকার?

প্রতিটি রোগী, যাদের হাঁটুতে ব্যথা আছে, তাদের সকলকেই হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয় না; বরঞ্চ রোগী যারা গুরুতরভাবে হাঁটুর জয়েন্টের রোগে আক্রান্ত, যাদের রোগ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, যাদের কোনো চিকিৎসার মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার বা কার্যকারিতা উন্নত করা সক্ষম হতে পারে নি, তাদের জন্য। গুরুতরভাবে হাঁটুর জয়েন্ট আক্রান্ত হলে অনেকগুলি সমস্যার দেখা দেয়, যেরেকম চরম ব্যথা, কার্যকারিতাতে সমস্যা, মৌলিক গতিবিধিতে সীমাবদ্ধতা।

হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারির সাথে কী কী ঝুঁকি জড়িত রয়েছে?

আজ, হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি সবচেয়ে নিরাপদ অগ্রিম চিকিৎসা প্রণালী পদ্ধতির মধ্যে গণিত, যাতে ঝুঁকি কম, দ্রুত পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং সাফল্যের মাত্রা প্রশংসনীয়। হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বা টোটল নী আর্থ্রোপ্লাস্টি, অন্যান্য অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় খুবই নিরাপদ। তবে, একটি সাধারণ সার্জারির মতো, নিম্নলিখিত কিছু ঝুঁকি, এই সারজারির ক্ষেত্রেও রয়েছে : 

  • পা বা ফুসফুসে রক্তজমাট হওয়া (ব্লড ক্লটিং)
  • স্ট্রোক
  • হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের ক্ষতি
  • ইন্ফেকশন (সংক্রামিত হওয়া)
  • স্নায়ু (নর্ভ) বা রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত
  • ভেতরে কৃত্রিম যন্ত্রের সমস্যা
  • অস্ত্রোপচারের (সার্জারির) পরে অবিরত ব্যথা

এই ঝুঁকিগুলি মাঝেমধ্যে দেখা দেয় এবং সব রোগীদের উপরে তেমনভাবে প্রভাব ফেলে না; অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে যে ঝুঁকি দেখা গিয়ে থেকে থাকে, সোগুলো সবই সাধারণ ঝুঁকি এবং সময়ের সাথে সাথে রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু, নিম্নলিখিত দুটি জটিলতা হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারির পর দেখা দিতে পারে:

  • সার্জারির পরে সংক্রামণ গ্রস্ত হয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, শীত ভাব, অস্ত্রোপ্রচারের স্থান থেকে স্খালন, জায়গাটি ফুলে যাওয়া, জয়েন্টে বিস্তৃতরকমের ব্যথা এবং স্থানটি লাল হয়ে যাওয়া।
  • আসল হাঁটুর পরিবর্তে যে অনুকরণ জয়েন্টটি লাগানো হয় তার ক্ষয় ও ক্ষতি হয়। এই সমস্যাটি তাৎক্ষণিত ভাবে উল্লেখিত হয় না, আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কঠোর শারীরিক ক্রিয়াকল্প, যেমন ওজন তোলার (ওয়েটলিফ্টিং-এর) কারণে জয়েন্টের ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে গিয়ে থেকে থাকে।

কিভাবে হাঁটুর প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের (সার্জারির) জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়?

সার্জারির সাফল্যপূর্বক ভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের আগে প্রি-অপারেটিভ প্রস্তুতি নেওয়া পেরয়োজন। তা ছাড়া, সার্জারির আগে, যে বিষয়গুলির তদারকিপূর্বক মূল্যায়ন করা দরকার, তার প্রণালী নিম্নলিখিত :

প্রি-অপারেটিভ পরীক্ষা : একজন অর্থোপেডিক সার্জন রোগীর রক্তের গণনা, রক্তের জমাটের উপস্থিতি, হার্টের অবস্থা, ইত্যাদির জন্য কয়েকটি পরীক্ষা পরিচালনা করবেন। এই পরীক্ষাগুলিতে রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এবং হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারিটি রোগীর জন্য চিকিৎসার সর্বোত্তম পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া কিনা সেটা নির্ধারণ করতে ডাক্তারকে সাহায্য করে।

খাদ্য ও ঔষধ : অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে হাঁটুর অবস্থার উপর নির্ভর করে কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এর সাথে, ধূমপানের মতো ক্রিয়ারকল্প সীমাবদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়া, সার্জারির দিনে, মধ্যরাত্রের পর রোগীর জন্য সকল খাবারই নিষিদ্ধ।

সার্জারির পরের প্রস্তুতি : চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে, সমস্ত সতর্কতা অনুসরণ করে সার্জারির পরের সেবা যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছুদিনের জন্য রোগীকে, ঘোরাঘুরি করার সাহায্যের জন্য, ওয়াকার, স্টিক বা ক্রাচ ব্যবহার করতে পারে। অনেক সময়ে, রোগীকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামের জন্যেও বলা হতে পারে। এর সাথে সাথে, সমস্ত সতর্কতা অনুসরণ করা যেমন, সিঁড়ি এড়ানো, ওয়াশরুমে সহায়তার জন্য সেফ্টিবার এবং হ্যান্ড-রেল ব্যবহার করা, বসে থাকার সময় পা উঁচু করে রাখা, চান করার সময় বসে চান করা, ইত্যাদি ভীষণ প্রয়োজনীয়।

হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারির পরে পুনরুদ্ধারের জন্য সময়কাল কি?

হাঁটুর প্রতিস্থাপনের সার্জারির পরের  পুনরুদ্ধার এবং সফলভাবে কার্যকারী হওয়ার জন্যে প্রায় তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। তার পরেও, সাঁতার, গল্ফিং, বাইক চালানোর মতো কঠোর পরিশ্রমের ক্রিয়াকল্পে আবার জড়িত হওয়ার আগে, সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হওয়ার পরে, ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। স্বল্প পরিশ্রম বা খাটনি, যেমন জগিং, লাফালাফি করা, স্কিয়িং করা, টেনিস খেলা, অন্যান্য খেলাধুলার জন্যেও ডাক্তারের পরামর্শ অনিবার্য্য। যদি যথাযথ যত্ন নেওয়া হয় তাহলে, হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি ১৫ বছর পর্যন্ত বিনা সমস্যায় চলতে পারে, যেখানে চলাচলে সাহায্য করে জীবনজাপনের মানকে সুদৃঢ় করে। তা ছাড়া, রোগীর দরকার হিসেবে, দৈনন্দিনের জীবন শৈল্য, খাওয়ার প্রণালী, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ফলেআপের পরামর্শও দেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে ঝুলিয়ে, যদিও হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি অত্যন্ত নিরাপদ এবং মানুষ খুব সাধারণ ভাবে এই অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিটি স্বীকৃতী দিয়েছে, তবুও এটা বলা প্রয়োজনীয় যে, অন্যান্য চিকিৎসার বিকল্পগুলোর সাথে সার্জারির সুবিধা, সতর্কতা, ঝুঁকি এবং পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি মূল্যায়ন করা জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">HTML</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*

Hi, How Can We Help You?