Consult Online
Book an Appointment
  • Calcutta Medical Research Institute 7/2 Diamond Harbour Road Kolkata-700027, West Bengal

হার্নিয়ার চিকিৎসা (ট্রিটমেন্ট)

হার্নিয়া একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যা মহিলা ও পুরুষ, উভয়কেই প্রভাবিত করে থেকে থাকে। রেকর্ড অনুসারে, প্রকৃতপক্ষে, প্রত্যেক দশ জনে একজন হর্নিয়া দ্বারা প্রভাবিত। যদিও সমস্যাটি সম্পূর্ণ ভাবে নিরাময়যোগ্য এবং জীবন সঞ্চারে কোনো ভয় বা হুমকির সম্ভাবনা থাকে না, তবুও তার চিকিৎসকীয় অবিপ্রায় এবং বাড়িতে চিকিৎসার প্রয়োজন থেকে থাকে। যখন শরীরের কোনো কাঠামো বা অঙ্গ, যদি মাসলের (পেশী) বডি টিস্যুগুলোর মাঝখানে পাওয়া জায়গা দিয়ে অস্বাভাবিক ভাবে প্রসারিত (প্রোট্রুড) হয়ে যেতে দেখা দেয়, সেই পরিস্থিতিকে হার্নিয়া বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। শরীরের এই অবস্থা, যেখানে সম্পর্কিত অঙ্গ বা কাঠামো গর্ভাবস্থা, কোষ্ঠকাঠিন্যতা, ভারী ওজন তোলা, পেটে তরল পদার্থ জমা, দেহের অতিরিক্ত ওজন, সার্জারি, ক্রমাগত কাশি, ক্রমাগত হাঁচি, ইত্যাদি কারণের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। বার্ধক্য, অতিরিক্ত কাশি, আঘাত, অস্ত্রোপচারের (সার্জারির) জটিলতা, এবং তা ছাড়াও আরও অন্য অনেক কারণেই পেশীগুলো (মাসলগুলো) দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উপরোক্ত কারণগুলো ছাড়া, যে যে কারণে কেউ হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে তা হল :

  • পারিবারিক ইতিহাস
  • মোটা শরীর বা অত্যাধিক ওজন
  • দীর্ঘস্থায়ী ও দীর্ঘায়তির কাশি
  • গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ধূম্রপান
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস (অংশসমূহের বৃদ্ধি)
  • বারংবার বমি করা

তলপেটে, উপরের উরুতে, গোপনাঙ্গের খাঁজে এবং পেটে, যে কোনো জায়গাতেই হার্নিয়ার গঠন হতে পারে। ইনগুইনল হার্নিয়া, হিয়াটল হার্নিয়া, অম্বিলিকল হার্নিয়া, এবং ইনসিশনল হার্নিয়া হল কয়েক প্রকারের হার্নিয়া যা অধিকাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে। যদিও হার্নিয়া, রোগ হিসেবে খুবই পরিচিত, সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য লক্ষণগুলো জেনে রাখা খুব প্রয়োজনীয়। হার্নিয়া রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণ হল, যে কোনো স্থানে অন্তর্ভুক্ত একটা স্ফীত অংশ বা পিন্ড; ঝুঁকতে গেলে, কাশতে গেলে বা জিনিস তুলতে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে ব্যথা হওয়া; তলপেটে দুর্বলতা; স্ফীত অংশে ব্যাথা বা জ্বালা; এ্যাসিড প্রতিপ্রবাহ (রিফ্লাক্স); বক্ষস্থলে প্রবল যন্ত্রনা; আর গ্রাস করতে অসুবিধে। এত কিছুর পরে, এটা বলা দরকার যে হার্নিয়া লক্ষণগুলো একই ধরণের হয় না এবং আলাদা আলাদা মানুষের ও হার্নিয়ার ধরণে ভিন্ন-ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে; এবং এটাও সম্ভব হতে পারে যে কোনো লক্ষণ না থাকা সত্বেও বিদ্যমান থাকতে পারে।

সাধারণত, হার্নিয়া রোগ থেকে জীবনের কোনো হুমকি যদিও দেখা যায় না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো রোগীর তীব্র সমস্যা দেখা দিতে পারে। সকল ক্ষেত্রেই, যেখানে হার্নিয়ার থেকে সমস্যাজনক লক্ষণ উৎপন্ন হয়, চিকিৎসা করানো অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

হার্নিয়ার চিকিৎসা

যে সকল হার্নিয়ার ধরণের ক্ষেত্রে যেখানে কোনোরকমের লক্ষণ দেখা দেয় না, দেখতে থাকে এবং অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি থাকে না, কারণ চিকিৎসা তখনই শুরু করা যাবে যখন কোনো সমস্যাযুক্ত লক্ষণ দেখা দেবে।         

যদিও হার্নিয়া চিকিৎসার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হল সার্জারি, কিন্তু সার্জারির ধরণ আলাদা আলাদা হার্নিয়ার ক্ষেত্রে ও তাদের অবস্থানের জায়গার হিসেবে নির্ধারিত হয়। হার্নিয়া চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত দুটি প্রধান সারজারির পদ্ধতি হল :

  • ওপেন সার্জারি
  • ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারি

ওপেন সার্জারি : এই ধরণের সার্জারিতে বা অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা সাধারণত হার্নিয়া বন্ধ করতে সেলাই (স্য়ুচর্স) বা জালি (মেশ) বা দুটোর সংমিশ্রণ ব্যবহার করে থাকেন। ত্বকের ওপরে যে ক্ষতটি থাকে সেটা সেলাই দিয়ে, বা স্টেপেল করে বা আঠা দিয়ে বন্ধ করা হয়। এই ধরণের সার্জারিতে, চিকিৎসক হার্নিয়া অবস্থানের কাছাকাছি একটু চিরে স্ফীত অংশটিকে চেপে ঢুকিয়ে দেন।     

ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারি : ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারিতে, চিকিৎসক একটি ছোট ক্যামেরা ও একটি ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের যন্ত্র দিয়ে, কয়েকটা ছোট ছোট চেরা লাগিয়ে হার্নিয়া সারিয়ে তোলেন। এই ধরণের অস্ত্রোপচারে আশেপাশের টিস্যুগুলোর কোনো ক্ষতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

সার্জারির ধরণ অবস্থা কতটা জরুরী এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অস্ত্রোপচার ছাড়া, যোগার মত শারীরিক অনুশীলনেও পরিস্থিতি মতে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। নিম্নলিখিত শারীরিক অনুশীলন হার্নিয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে :

এক পা তোলা (সিঙ্গল লেগ রেস্ড) : এই অনুশীলনের দ্বারা পেট ও তলপেটের জোড় বারে এবং হার্নিয়ার থেকে যে সকল জটিলতা উৎপন্ন হতে পারে তার প্রতিরোধ করে। অনুশীলনের এই পদ্ধতিটিতে রোগীকে চিত হয়ে সোজা হয়ে শুয়ে, হার্নিয়ার ওপরে দুটি হাত রাখবে। এই পরিস্থিতিতে, একটি করে পা নারিয়ে ওপর নীচে করতে হবে; এবং মাটিতে পা পড়তে পারবে না। এই অনুশীলনটি দুটি পা দিয়ে দিনে ২ জোড়া করে করতে হবে।

আড়াআড়ি পা রাখা (লেগ ক্রসিং) : এই পদ্ধতিতে রোগীকে চিত হয়ে সোজা হয়ে শুয়ে, হার্নিয়ার ওপরে দুটি হাত রেখে, ওই অবস্থায় দুটি পা মাটির থেকে দু ফিট ওপরে তুলে ধরে, কাঁচির মত দুটো পা চালাতে থাকবে, যেখানে একবার একটা পা ওপরে থাকবে এবং পরের বার অন্য পা। এই অনুশীলনটা একটি সেটে ১০ করে, দুটি সেট করা উচিত। এই অনুশীলনটি পেট এবং তলপেটের কাছের অঙ্গগুলো যাতে স্থানচ্যুত না হয়ে, হার্নিয়ার কোনো জটিলতা না দেখা দেয়, তার জন্য প্রয়োজনীয়। 

গাছের ভঙ্গি অবলম্বন করা (ট্রী পোজ) : এই অনুশীলন পদ্ধতিতে, অনিশীলনকারীকে পায়ের আঙুলের ওপর দাড়িয়ে থাকতে হবে, আর ভেতরের পাটার ওপর জোড় দিয়ে, একটা হাঁটুকে একটু ভাঁজ করে রাখতে হবে। এই রূপ ধারণ করার পরে, ঝুঁকে গিয়ে সেই গোড়ালিটাকে ধরে ওপরের দিকে এনে ভেতরের উরুতে রাখতে হবে। এই অবস্থায় হাত দুটো জোড় করে মাথার ওপরে রাখতে হবে; এতে হার্নিয়ার অনুভূক্ত অঙ্গগুলোর অঞ্চলে টান পড়ে এবং মাংসপেশী (মাস্ল্স) ও বডি টিস্যুগুলোতে শক্তি প্রদান করে।

এই অনুশীলনগুলো ছাড়াও হার্নিয়ার পরিচালনার জন্য আরও কিছু কার্যকারী পদ্ধতি আছে। য়েগুলো হল :

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
  • মাংসপেশীতে শক্তি উন্নত করতে লক্ষ্যযুক্ত সহকারে শারীরিক ক্রিয়াকল্পে রত হওয়া
  • ওষুধের প্রয়োগ
  • ফাইবার সম্বৃদ্ধ খাদ্য
  • জল ও তরল পদার্থ

তদ্ব্যতীত, ট্রসেস, করসেট ও বাইন্ডার পড়লেও হার্নিয়াকে ঠিক জায়গায় ধরে রেখে, ত্বক ও অঙ্গ প্রাচীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। এ সকল বলার পরে, এটা বলা উচিত যে সঠেক পদ্ধতি অনুসরণ করলে খুব সহজে হার্নিয়ার পরিচালনা করে চিকিৎসা করানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">HTML</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*

Hi, How Can We Help You?